আল মুমতাহিনা - কোরান - হারুন ইয়াহিয়া
-
1. মুমিনগণ, তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধরূপে গ্রহণ করো না। তোমরা তো তাদের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও, অথচ তারা যে সত্য তোমাদের কাছে আগমন করেছে, তা অস্বীকার করছে। তারা রসূলকে ও তোমাদেরকে বহিস্কার করে এই অপরাধে যে, তোমরা তোমাদের পালনকর্তার প্রতি বিশ্বাস রাখ। যদি তোমরা আমার সন্তুষ্টিলাভের জন্যে এবং আমার পথে জেহাদ করার জন্যে বের হয়ে থাক, তবে কেন তাদের প্রতি গোপনে বন্ধুত্বের পয়গাম প্রেরণ করছ? তোমরা যা গোপন কর এবং যা প্রকাশ কর, ত আমি খুব জানি। তোমাদের মধ্যে যে এটা করে, সে সরলপথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়।
-
2. তোমাদেরকে করতলগত করতে পারলে তারা তোমাদের শত্রু হয়ে যাবে এবং মন্দ উদ্দেশ্যে তোমাদের প্রতি বাহু ও রসনা প্রসারিত করবে এবং চাইবে যে, কোনরূপে তোমরা ও কাফের হয়ে যাও।
-
3. তোমাদের স্বজন-পরিজন ও সন্তান-সন্ততি কিয়ামতের দিন কোন উপকারে আসবে না। তিনি তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করবেন। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা দেখেন।
-
4. তোমাদের জন্যে ইব্রাহীম ও তাঁর সঙ্গীগণের মধ্যে চমৎকার আদর্শ রয়েছে। তারা তাদের সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ তোমাদের সাথে এবং তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যার এবাদত কর, তার সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। আমরা তোমাদের মানি না। তোমরা এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে তোমাদের মধ্যে ও আমাদের মধ্যে চিরশত্রুতা থাকবে। কিন্তু ইব্রাহীমের উক্তি তাঁর পিতার উদ্দেশে এই আদর্শের ব্যতিক্রম। তিনি বলেছিলেনঃ আমি অবশ্যই তোমার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করব। তোমার উপকারের জন্যে আল্লাহর কাছে আমার আর কিছু করার নেই। হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা তোমারই উপর ভরসা করেছি, তোমারই দিকে মুখ করেছি এবং তোমারই নিকট আমাদের প্রত্যাবর্তন।
-
5. হে আমাদের পালনকর্তা! তুমি আমাদেরকে কাফেরদের জন্য পরীক্ষার পাত্র করো না। হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের ক্ষমা কর। নিশ্চয় তুমি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
-
6. তোমরা যারা আল্লাহ ও পরকাল প্রত্যাশা কর, তোমাদের জন্য তাদের মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে। আর যে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জানা উচিত যে, আল্লাহ বেপরওয়া, প্রশংসার মালিক।
-
7. যারা তোমাদের শত্রু আল্লাহ তাদের মধ্যে ও তোমাদের মধ্যে সম্ভবতঃ বন্ধুত্ব সৃষ্টি করে দেবেন। আল্লাহ সবই করতে পারেন এবং আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়।
-
8. ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেনি এবং তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেনি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদেরকে ভালবাসেন।
-
9. আল্লাহ কেবল তাদের সাথে বন্ধুত্ব করতে নিষেধ করেন, যারা ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিস্কৃত করেছে এবং বহিস্কারকার্যে সহায়তা করেছে। যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করে তারাই জালেম।
-
10. মুমিনগণ, যখন তোমাদের কাছে ঈমানদার নারীরা হিজরত করে আগমন করে, তখন তাদেরকে পরীক্ষা কর। আল্লাহ তাদের ঈমান সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন। যদি তোমরা জান যে, তারা ঈমানদার, তবে আর তাদেরকে কাফেরদের কাছে ফেরত পাঠিও না। এরা কাফেরদের জন্যে হালাল নয় এবং কাফেররা এদের জন্যে হালাল নয়। কাফেররা যা ব্যয় করেছে, তা তাদের দিয়ে দাও। তোমরা, এই নারীদেরকে প্রাপ্য মোহরানা দিয়ে বিবাহ করলে তোমাদের অপরাধ হবে না। তোমরা কাফের নারীদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রেখো না। তোমরা যা ব্যয় করেছ, তা চেয়ে নাও এবং তারাও চেয়ে নিবে যা তারা ব্যয় করেছে। এটা আল্লাহর বিধান; তিনি তোমাদের মধ্যে ফয়সালা করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ প্রজ্ঞাময়।
-
11. তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যদি কেউ হাতছাড়া হয়ে কাফেরদের কাছে থেকে যায়, অতঃপর তোমরা সুযোগ পাও, তখন যাদের স্ত্রী হাতছাড়া হয়ে গেছে, তাদেরকে তাদের ব্যয়কৃত অর্থের সমপরিমাণ অর্থ প্রদান কর এবং আল্লাহকে ভয় কর, যার প্রতি তোমরা বিশ্বাস রাখ।
-
12. হে নবী, ঈমানদার নারীরা যখন আপনার কাছে এসে আনুগত্যের শপথ করে যে, তারা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, তাদের সন্তানদেরকে হত্যা করবে না, জারজ সন্তানকে স্বামীর ঔরস থেকে আপন গর্ভজাত সন্তান বলে মিথ্যা দাবী করবে না এবং ভাল কাজে আপনার অবাধ্যতা করবে না, তখন তাদের আনুগত্য গ্রহণ করুন এবং তাদের জন্যে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল অত্যন্ত দয়ালু।
-
13. মুমিনগণ, আল্লাহ যে জাতির প্রতি রুষ্ট, তোমরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করো না। তারা পরকাল সম্পর্কে নিরাশ হয়ে গেছে যেমন কবরস্থ কাফেররা নিরাশ হয়ে গেছে।
শেয়ার করুন
1
আল ফাতিহা
2
আল বাকারাহ
3
আল ইমরান
4
আল নিসা
5
আল মায়েদাহ
6
আল আন-আম
7
আল আ’রাফ
8
আল আনফাল
9
আল তাওবাহ
10
ইউনুস
11
হুদ
12
ইউসূফ
13
আলরা’দ
14
ইব্রাহীম
15
আল হিজর
16
আল নাহল
17
আল ইসরাঈল
18
আল কাহফ
19
মারইয়াম
20
ত্বা হা
21
আল আন্বিয়াহ্
22
আল হাজ্জ্ব
23
আল মু’মিনূন
24
আল নূর
25
আল ফুরকান
26
আল শো’আরা
27
আল নমল
28
আল কাসাস
29
আল আনকাবুত
30
আল রূম
31
লোকমান
32
আল সিজ্দাহ
33
আল আহযাব
34
সাবা
35
ফাতির
36
ইয়াসীন
37
আল সাফফাত
38
ছোয়াদ
39
আল যুমার
40
গাফ্ফার
41
ফুসিলাত
42
আল শুওয়ারা
43
আল যুখরুফ
44
আল দোখান
45
আল জাসিয়া
46
আল আহক্বাফ
47
মুহাম্মদ
48
আল ফাত্হ
49
আল হুজরাত
50
ক্বাফ
51
আল যারিয়াত
52
আল তূর
53
আল নাজম
54
আল ক্বামার
55
আলরহমান
56
আল ওয়াক্বিয়া
57
আল হাদীদ
58
আল মুজাদালাহ
59
আল হাশর
60
আল মুমতাহিনা
61
আল ছফ
62
আল জুম্মাহ
63
আল মুনাফিকুন
64
আল তাগাবুন
65
আল ত্বালাক্ব
66
আল তাহরীম
67
আল মুলক
68
আল কালাম
69
আল হাক্বক্বাহ
70
আল মারিজ
71
নূহ
72
আল জ্বিন
73
আল মুজাম্মিল
74
আল মুদ্দাসসির
75
আল ক্বেয়ামাহ
76
আল ইনসান
77
আল মুরসালাত
78
আল নাবাহ
79
আল নাজআ’ত
80
আবাসা
81
আল তাকওয়ায়ীর
82
আল ইনফিতার
83
আল মুতাফফীন
84
আল ইনশিক্বাক্ব
85
আল বুরূজ
86
আল তারিক্
87
আল আ’লা
88
আল গাশিয়াহ
89
আল ফজর
90
আল বালাদ
91
আল শামস
92
আল লায়ীল
93
আল দ্বোহা
94
আল সারাহ
95
আল ত্বীন
96
আল আলাক
97
আল কদর
98
আল বাইয়্যিনাহ
99
আল যালযালাহ
100
আল আদিয়াত
101
আল কারেয়া
102
আল তাকাসূর
103
আল আছর
104
আল হুমাযাহ
105
আল ফীল
106
কোরাইশ
107
আল মাউন
108
আল কাওসার
109
আল কাফিরুন
110
আল নছর
111
আল মাসাদ
112
আল ইখলাছ
113
আল ফালাক্ব
114
আল নাস